বিদায়ী ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৭৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে বৃহৎ করদাতা ইউনিট
আদায় প্রতিনিধি ঃ
বিদায়ী ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বৃহৎ
করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) অধীন
১০৯টি কোম্পানির কাছ থেকে ৭৪ হাজার
কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে বৃহৎ
করদাতা ইউনিট। যা গত অর্থবছরের
তুলনায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি বেশি।
বৃহৎ করদাতা ইউনিট সূত্রে জানা যায়,
এলটিইউ-এর মূল্য সংযোজন কর সংগ্রহ
২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ শতাংশ এবং
২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি
পেয়েছে। আরো জানা যায়, গ্যাস,
বিদ্যুৎ, সিগারেট এবং অন্যান্য
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের μমবর্ধমান
মূল্যের কারণে এত বেশি ভ্যাট আহরণ
করা গেছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া
পরিশোধের অংশ হিসেবে পেট্রোবাংলার
কাছ থেকে বকেয়া পাঁচ হাজার কোটি
টাকা আদায় এ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধিতে
ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও এনবিআরের
বিরোধ নিষ্পত্তি ও আইনি মাধ্যমে
মোবাইল ফোন অপারেটর এবং
ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের
সাফল্যও এ রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করেছে। তামাক শিল্প
সরকারি কোষাগারে সর্বোচ্চ ভ্যাট
প্রদানকারী খাত। এলটিইউ অফিসের
মোট সংগ্রহের প্রায় অর্ধেক আসে এ খাত
থেকে।
২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সরকার
উল্লেখযোগ্যভাবে সিগারেটের দাম
বাড়িয়েছিল। এতে দুটি বড় কোম্পানি
থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত
উপার্জন করা গিয়েছিল। আর মোট ভ্যাট
আয় হয়েছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকার
ওপরে।
আরো জানা যায়, সর্বোচ্চ ভ্যাট দিয়েছে
তামাক কোম্পানিগুলো। এ খাতের দুটি
কোম্পানির সামগ্রিক ভ্যাট ১৬ শতাংশ
বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব কোম্পানি বছরে
অন্তত পাঁচ কোটি টাকা বা তার বেশি ভ্যাট
দেয় সেগুলোর ভ্যাট পরিশোধের
তত্ত¡বধান করে এলটিইউ-ভ্যাট অফিস।
৩৭টি বিভিনড়ব খাতের মোট ১১০টি
কোম্পানি বর্তমানে এ অফিসের
আওতাভুক্ত। তালিকাভুক্ত তিনটি
ইউনিটের মধ্যে দুটি ব্রিটিশ আমেরিকান
টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের
(বিএটিবি)। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে
আনুমানিক ৩২ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট
কেবল বিএটিবি থেকে এসেছে বলে জানা
যায়। বাকি অর্থ এসেছে জাপান টোব্যাকো
ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলটিইউ-তে
অন্যান্য শীর্ষ ভ্যাটদাতা সংস্থাগুলে হলো
গ্যাস, মোবাইল ফোন, ওষুধ, ব্যাংকিং,
বিদ্যুৎ বিতরণ, পানীয়, সিমেন্ট এবং
গুদাম শিল্পের ইউনিট। বাংলাদেশ
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন শীর্ষ
দশের মধ্যে রয়েছে। গত অর্থবছরে গ্যাস
খাতের পাঁচটি ইউনিট থেকে রাজস্ব
কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার কোটি
টাকার বেশি সংগ্রহ করেছে। প্রায় ১৬
শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় বৃহত্তম অবদায়ক
মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো, যাদের
কাছ থেকে আহরিত ভ্যাটের পরিমাণ প্রায়
১১ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। রবি
আজিয়াটা লিমিটেডের রেগুলেটরি
অ্যাফেয়ার্সের প্রধান শাহেদ আলম
টিবিএসকে বলেন, মোবাইল
অপারেটরেরা গত অর্থবছরে দুই হাজার
৬০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম এবং
সরঞ্জামের ওপর বিনিয়োগের জন্য ভ্যাট
প্রদান করেছে। এলটিইউ অফিসে
তালিকাভুক্ত ১৭টি ব্যাংকের রাজস্ব বৃদ্ধির
পরিমাণ গত অর্থবছরে তিন হাজার ৬০০
কোটি টাকার বেশি।